রাওয়ালপিন্ডির সেই বিধ্বংসী স্মৃতি এবার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে আনলেন নাহিদ রানা। বৃষ্টির বাধা আর রুদ্ধশ্বাস রোমাঞ্চ ছাপিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে ঘরের মাঠে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই পাকিস্তানকে হারানোর গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজরা। পাশাপাশি ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্ট জয়ের পর এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা তৃতীয় টেস্ট জয়।
রানার বোলিং তোপ ও শান্তর নেতৃত্ব
প্রথম ইনিংসে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন নাহিদ রানা। শান মাসুদ থেকে শুরু করে শাহিন শাহ আফ্রিদি—পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করে রানাই ছিলেন বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক। বিশেষ করে শাহিন আফ্রিদিকে করা সেই দুর্দান্ত বাউন্সারটি ছিল ম্যাচের সমাপ্তি রেখা।
অন্যদিকে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ মন্ত্রে দলকে উজ্জীবিত করেছেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৮৮ রান করার পাশাপাশি মাঠের কৌশলী সিদ্ধান্তেও তিনি ছিলেন অনন্য। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৩ রান দূরে থামলেও তার ৮৭ রানের ইনিংসটিই মূলত জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে ঝুঁকছে বলে মনে হলেও পঞ্চম দিনের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় দৃশ্যপট বদলে যায়। ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের বলে ইমাম-উল-হককে হারায় পাকিস্তান।
এরপর অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে সেই প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। শেষ বিকেলে মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর বোর্ড
- বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২৯/১০
- পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩০২/১০
- বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৪০/৯ (ডিক্লেয়ার), (শান্ত ৮৭, নোমান ৩/৮৩, হাসান ৩/৫৪)
- পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ১৬৩/১০ (লক্ষ্য ২৬৮), (নাহিদ রানা ৫/৪৫)
ফলাফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী। সিরিজ: বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে।
এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল বাংলাদেশ। বৃষ্টির শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে যেভাবে শেষ দিনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে শান্ত বাহিনী, তা দেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।