সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘আওয়ামী লীগ ফেরেনি, তারা ছিলই; মাহফুজ আলমের স্ট্যাটাসের জবাবে আসিফ নজরুল

জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে পতনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘ফিরে আসা’ বা ‘ব্যাক করা’ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অভিনব ও

জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে পতনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘ফিরে আসা’ বা ‘ব্যাক করা’ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক অভিনব ও তাত্ত্বিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও উপদেষ্টা মাহফুজ আলম যখন মনে করছেন আওয়ামী লীগ আবারও রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’, তখন তার এই বক্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছেন ‘আওয়ামী লীগ ফেরেনি, তারা ছিলই।’

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ঢাবির এই সিনিয়র শিক্ষক দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ নজরুলের এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, বরং তারা ভেতরে ভেতরে সক্রিয় ছিল। এখন সুযোগ বুঝে তাদের পুরোনো চারিত্রিক দম্ভ ও প্রোপাগান্ডা নিয়ে তারা আবারও জনসমক্ষে আসার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছু সময়ের ব্যবধানে ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে দুটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট দেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

প্রথম পোস্টে তিনি একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে লেখেন, লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।

উক্ত স্ট্যাটাসে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই ঘরানার রাজনীতি বা শক্তির পুনরুত্থান ঘটছে, তার একটি বিশদ ‘গল্প’ ও নিজস্ব পর্যালোচনা তুলে ধরেন তিনি।

মাহফুজ আলমের এই ‘ধর্মতত্ত্ব’ ও ‘ইমান ফেরত আসা’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে ফেসবুকসহ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে আরও একটি পাল্টা পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন মাহফুজ আলম।

দ্বিতীয় পোস্টে তিনি লেখেন, যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হলো সব নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের এমন ভিন্নধর্মী ফেসবুক পোস্ট এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন