সমাজে ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতা, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের পেছনে সুস্থ ধারার বিনোদন এবং শিল্প-সংস্কৃতির চর্চার অভাবকে দায়ী করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ধর্মীয় লেবাসধারী কিছু অপরাধী এবং সমাজের সার্বিক যৌন সন্ত্রাসীদের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষের ভেতরের পাশবিকতা দূর করতে সুকুমার বৃত্তির চর্চা এবং নান্দনিকতাবোধ অত্যন্ত জরুরি।
ফেসবুক পোস্টে তৌহিদুর রহমান সুর ও সঙ্গীতের সঙ্গে মানব জীবনের জৈবিক ও মানসিক চাহিদার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক তুলনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা গান-বাজনা বা সংস্কৃতির বিরোধিতা করেন, তারা মূলত জীবনের স্বাভাবিক সুর ও নান্দনিকতা থেকে বঞ্চিত। সুরের এই অভাবই মানুষকে একপর্যায়ে ‘অসুর’ বা রাক্ষুসে প্রবৃত্তির দিকে ঠেলে দেয়, যার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে শিশু ধর্ষণ বা বলৎকারের মতো নৃশংস অপরাধে।
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের বিভিন্ন রাগ ও লয়ের উদাহরণ টেনে এই সিনিয়র সাংবাদিক মানুষের জৈবিক তাড়না ও জীবনধারাকে শৈল্পিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, সমাজে সুস্থ উপায়ে ক্ষুধা বা জৈবিক চাহিদা মেটানোর নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম ও ধৈর্যকে বিসর্জন দিয়ে যারা জোরপূর্বক বা অপরাধমূলক পন্থায় কামোন্মাদনায় মত্ত হয়, তারা মূলত বিকারগ্রস্ত।
নেতিবাচক হরমোনের তাড়না ও মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির ছায়াতলে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, সুকুমার বৃত্তির চর্চা করলে মানুষের দেহ ও মন নান্দনিক আনন্দে পূর্ণ থাকে, ফলে সমাজকে কলুষিত করার মতো অপরাধপ্রবণতা দূর হয়।
পোস্টের শেষাংশে তৌহিদুর রহমান স্পষ্ট করেন, তাঁর এই লেখাটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি জগতের সকল ধর্ষক, যৌন সন্ত্রাসী এবং যৌন বিকারগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে এক সামাজিক বার্তা। সবাইকে শান্ত-স্নিগ্ধ ও নান্দনিক জীবনযাপনের মাধ্যমে পৃথিবীকে শান্তিময় করে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।