দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এসেছেন ১ হাজার ১০০ জন নারী ও শিশু। রাজধানীতে আয়োজিত শিশু ও নারী সুরক্ষা বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১,১০০ জনের এই সংখ্যাটি কেবল একটি হাসপাতালের রেকর্ড। সামাজিক লোকলজ্জা, হুমকি ও আইনি জটিলতার কারণে দেশের বহু ধর্ষণের ঘটনা আড়ালে থেকে যায়। ফলে দেশজুড়ে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যাটি আরও কয়েক গুণ বেশি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একটি বড় অংশই অবুঝ শিশু, যা দেশের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
নারী ও শিশু অধিকারকর্মীরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্তরে এই সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে অবিলম্বে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় শিশু সুরক্ষা টাস্কফোর্স’ গঠন করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত বিচার আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা আবশ্যক। পারিবারিক নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং অপরাধের অন্যতম প্রধান অনুঘটক মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও আইনি লড়াই নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে থাকা ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার তাগিদ দেওয়া হয়।