বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আমরা শুধু সীমানার সঙ্গেই সংযুক্ত নই। আমরা বাংলাদেশের মানুষ এবং তাদের স্বপ্নের সঙ্গে সংযুক্ত।
হাইকমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকা আসার প্রাক্কালে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। আগামীকাল শুক্রবার (১২ জুন) তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে দীনেশ ত্রিবেদী কলকাতার ঐতিহাসিক নেতাজি ভবনে যান এবং সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, নেতাজির আদর্শই তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জনসেবার মানসিকতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।
দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে নতুন হাইকমিশনার বলেন, আমাদের (বাংলাদেশ ও ভারতের) একটি অভিন্ন স্বপ্ন আছে, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যুক্ত করছি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য যা কিছু মঙ্গলজনক, আমি নিশ্চিত যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এদেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা যা অর্জন করতে যাচ্ছি তাতে একতাবদ্ধ ও সফল হতে পারি।
এর আগে গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লেটার অব ক্রিডেন্স’ (পরিচয়পত্র) গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ভারতের সাবেক এই রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতাকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই সেই তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঠিক এমন একটি সময়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার পেশাদার কোনো কূটনীতিকের বদলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব দিল ভারত।
৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একজন সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী। ড. মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কোটায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় রেল বাজেট পেশ করার সময় যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি নিজ দলীয় প্রধান মমতা ব্যানার্জির তোপের মুখে পড়েন এবং একপর্যায়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
রেল মন্ত্রণালয় ছাড়াও তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং একই বছরের মার্চ মাসে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও বেগবান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।