যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটিতে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির হলরুমে এই প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
‘The Student-Led Uprising and the Future of Post-Revolutionary Bangladesh’ (ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ) শীর্ষক এই বিশেষ আলোচনায় মূল প্যানেলিস্ট হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সাদিক কায়েম। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা নিয়ে তারা সেখানে বক্তব্য রাখেন।
ভেতরে যখন আলোচনা চলছিল, তখন বাইরে অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ভবনের সামনে অবস্থান নেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। বিক্ষোভরত নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
এ সময় তারা প্যানেলিস্টদের লক্ষ্য করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ‘পালাইছেরে পালাইছে, হাসনাত পালাইছে’ ও ‘রাজাকার, রাজাকার’ বলে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অক্সফোর্ডশায়ার ও যুক্তরাজ্য পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ভেতরের বক্তব্য এবং বাইরের এই বিক্ষোভের ভিডিওচিত্র রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সমর্থকরা এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়েছেন; অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা একে ‘একপাক্ষিক আলোচনা’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে তীব্র উত্তেজনা ও স্লোগানের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাসনাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে, তবে ভেতরের মূল আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।