সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

হলফনামায় ‘মিথ্যা তথ্য’: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খানের

নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। আজ সোমবার

নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। আজ সোমবার (১৫ জুন) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলেন।

রাশেদ খান দাবি করেন, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে খোদ এমপি হান্নান মাসউদ নিজেই হলফনামায় অসত্য তথ্য উল্লেখ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আয়কর রিটার্ন দিতে সুবিধা হবে—এমন যুক্তি দেখিয়ে আইনজীবীর পরামর্শে হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছিলেন হান্নান মাসউদ। তিনি এখন দাবি করছেন যে তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই, যার অর্থ দাঁড়ায় নির্বাচনের সময় কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামার তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল।

এমপির সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খান আরও বলেন, কিছুদিন আগে হান্নান মাসউদ দাবি করেছিলেন, তিনি তার সহধর্মিণীর সেমিস্টার ফি পরিশোধ করেছেন ‘মাহবুব ভাই’ নামক একজনের কাছ থেকে ধার করে। এমনকি নতুন বাড়ি করার জন্য ইট কিনলেও তার ৩ লাখ টাকা এখনো বাকি, যা টাকার অভাবে শোধ করতে পারছেন না। একজন এমপি এতো গরিব, এতো সৎ! আহারে। তাহলে হলফনামায় এই ‘সততা’ কেন ফুটিয়ে তুললেন না তিনি?

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার আইনি পরিণতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশেদ খান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর একটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য কোট (উদ্ধৃত) করেন। গত বছরের (২০২৫ সালের ১১ আগস্ট) সাংবাদিকদের দেওয়া ওই বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, কোনো প্রার্থী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে ভোটের পরেও তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সত্যতা মিললে বাতিল হবে প্রার্থিতা, চলে যাবে সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। এটি সুনির্দিষ্টভাবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিধান হিসেবে সন্নিবেশ করা হয়েছে।

এই আইনি বিধানের আলোকেই হাতিয়ার বর্তমান সংসদ সদস্যের পদটি অবিলম্বে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিএনপি নেতা।

হলফনামা নিয়ে খোদ এমপির ‘স্বীকারোক্তি’ এবং পরবর্তীতে রাশেদ খানের এই প্রকাশ্য আইনি চ্যালেঞ্জের পর হাতিয়া ও নোয়াখালীর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। টকশোর ওই ভিডিও এবং রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ ভাইরাল। তবে এই অভিযোগ ও পদ বাতিলের দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন