ক্যারিয়ারে ৬১টি হ্যাটট্রিক থাকলেও লিওনেল মেসির অর্জনের খাতায় একটা বড় আক্ষেপ ছিল বিশ্বকাপে কোনো হ্যাটট্রিক না থাকা। অবশেষে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে ঘুচল সেই আজন্ম আক্ষেপ। কাতার বিশ্বকাপে অধরা শিরোপা ছোঁয়ার পর এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে হ্যাটট্রিকের দেখাও পেয়ে গেলেন আধুনিক ফুটবলের এই জাদুকর।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে মেসির রেকর্ড গড়ার রাতে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ ম্যাচ খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
কানসাস সিটিতে ম্যাচের শুরুটাই ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জালের দেখা পেয়েছিলেন মেসি, কিন্তু অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এর মাত্র দুই মিনিট পর (৮ম মিনিটে) আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ফারেস চাইবি আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠালেও সেটিও অফসাইডের খাঁড়ায় কাটা পড়ে। ফলে শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই দুই দলের গোল উদযাপনের আনন্দ মাটি হয়ে যায়।
শুরুর ধাক্কা সামলে ১৭ মিনিটেই লিড নেয় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের বাইরে থেকে মেসির নেওয়া দুর্দান্ত এক শট পাখির মতো ডানা মেলে আলজেরিয়ার জালে জড়ায়। গোলরক্ষক লুকা জিদান সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও বলের গতি ও পাওয়ারের কাছে পরাস্ত হন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। বিরতির ৫ মিনিট আগে আলজেরিয়ার চাইবি সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও তা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন আর্জেন্টিনার প্রাচীর এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৬০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। ম্যাক অ্যালিস্টারের ডি-বক্সের দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট আলজেরিয়া কিপার লুকা জিদান ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে সামনে থাকা মেসি বাঁ পায়ের আলতো টোকায় বল জালে জড়ান।
৬৬ মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ লুকা নসাৎ করে দিলেও ৭৬ মিনিটে আর পারেননি। ডি-বক্সের কাছাকাছি থেকে আরেকটি দুর্দান্ত ও নিখুঁত শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। হ্যাটট্রিকের পর আক্ষেপ ঘুচিয়ে ম্যাচের ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।
ম্যাচটিতে একঝাঁক অনন্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।ক্যারিয়ারের ৬২তম এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও কুয়েতের বাদের আল–মুতওয়ার পর ইতিহাসের তৃতীয় এবং আর্জেন্টিনার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ৬টি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য রেকর্ড। এই ৩ গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬টি। ফলে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চূড়ায় বসলেন তিনি।
লাওতারো মার্তিনেজরা কিছু সুযোগ মিস না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। তবে মেসির অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্সে ৩-০ গোলের বড় জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়নদের মতোই টুর্নামেন্ট শুরু করল আর্জেন্টিনা।