সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

যশোরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে দফায় দফায় সংঘর্ষ

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে দফায়

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটি গঠন করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় দুই পক্ষের মারমুখী অবস্থান ও চরম উত্তেজনার মুখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সংবাদকর্মী স্থানীয় জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিংড়া ধর্মপুর দারুছ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে দাতা সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে গোপনে একটি পকেট গভর্নিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। এই কমিটিতে এক পক্ষের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও অন্য পক্ষকে বাদ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সাধারণ এলাকাবাসী, স্থানীয় বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।

মাদ্রাসার ভেতরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হট্টগোলের খবর পেয়ে সরেজমিনে তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি সাংবাদিক এনামুল হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় উত্তেজিত দুই পক্ষের কর্মীরা। হামলাকারীরা তাঁর ভিডিও ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এদিকে মাদ্রাসার এই অবৈধ কমিটি বাতিল এবং অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্টার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন চিংড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এর আগেও ‘শৈরাশনি মাদ্রাসা’র সুপার থাকাকালীন সময়ে বড় ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হয়েছিলেন। বর্তমান মাদ্রাসার বাউন্ডারি ওয়াল (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণের সময় মোটা অঙ্কের আর্থিক অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে মাদ্রাসার নিজস্ব মূল্যবান জমি ছেড়ে দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই পুরোনো দুর্নীতি এবং নতুন পকেট কমিটি গঠন এই দুই বিষয় নিয়ে আজ দুই পক্ষের মধ্যকার ক্ষোভ চূড়ান্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

গোপনে কমিটি গঠন, জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ ও জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো পকেট কমিটি করিনি। হাই কমান্ডের নির্দেশে নিয়ম অনুযায়ীই কমিটি গঠন করে বোর্ডে পাঠিয়েছি। তবে হাই কমান্ড বলতে তিনি কোন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক শক্তিকে বুঝিয়েছেন, তা পরিষ্কার করেননি।

বর্তমানে মাদ্রাসা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন