সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে তাদের সীমান্তবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী দেশ

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে তাদের সীমান্তবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও চরম আকার ধারণ করেছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল।

তালেবানের দাবি ও পাকিস্তানের ড্রোন ভূপাতিত করার পাল্টা বক্তব্য
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে। এতে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই দাবির আংশিক সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানের দিক থেকে উড়ে আসা চারটি সাধারণ মানের ড্রোন আকাশেই ভূপাতিত করেছে। একই সাথে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আফগান ভূখণ্ড থেকে যেকোনো ধরনের উসকানির ‘যথাযথ ও কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে। (উল্লেখ্য, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তালেবানের দাবি করা হামলার বিস্তারিত সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি)।

মূলত গত রবিবার (২৮ জুন) আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকেই এই নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। জাতিসংঘের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, পাকিস্তানের সেই হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

তবে তালেবান সরকার পরবর্তীতে নতুন করে দাবি করেছে যে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ইতিমধ্যে ৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ‘কাপুরুষোচিত ও নৃশংস’ হামলা চালিয়েছে।

আফগানিস্তানের এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় নিজস্ব স্থল অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে মূলত সক্রিয় জঙ্গি আস্তানাগুলোতেই বিমান হামলা চালিয়েছেন। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার জবাবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং এতে অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করেছে।

দীর্ঘ কয়েক মাসের আপাত শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও দুই দেশের সীমান্তে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি হলো। কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর গত বছরের অক্টোবরে উভয় দেশ একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা ও ড্রোন আগ্রাসনের ফলে সেই সমঝোতা এখন কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

সীমান্তবর্তী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চেও পাকিস্তানের হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি গত জুনেও পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়ে ২৬ জন জঙ্গি হত্যার দাবি করলেও, তালেবান প্রশাসন বলেছিল যে ওই হামলায় মূলত ১৩ জন সাধারণ শিশু ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যারা মূলত পাকিস্তানি সীমান্ত ও সেনা চৌকিতে হামলা চালায়। তবে কাবুলের তালেবান প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে ইসলামাবাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও বর্তমানের সামরিক উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন