জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজনের তীব্র প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সোমবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মার্কিন তোষণ নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার চক্রান্ত চলছে।
সমাবেশ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ৮ জুলাই দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা সরকারের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। সভাপতির বক্তব্যে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘দেশবিরোধী বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিল করার পরিবর্তে সরকার মার্কিন তোষণ নীতি গ্রহণ করেছে। জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুমতি দেওয়া তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার এবং তথাকথিত বিরোধী দল উভয়েই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ভূমিকা পালন করছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষকে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতীক ও রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংসদ ভবন প্রাঙ্গণকে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উদযাপনের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া জাতীয় আত্মমর্যাদাবোধের পরিপন্থী। ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সহযোগী ছিল। সেই দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য সংসদ ভবন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননার শামিল।
এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে সিপিবির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমন সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা ও জাতীয় মর্যাদা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নেতৃবৃন্দ দাবি জানান, ভবিষ্যতে যেন জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত কোনো স্থাপনা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বা জাতীয় দিবস উদযাপনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।
একই সাথে, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা রাখা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন সিপিবি নেতারা। তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জামায়াত উভয়ই সর্বদা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছে।
সমাবেশ শুরুর আগে সিপিবির উদ্যোগে পল্টন মোড় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাব ও কদম ফোয়ারা প্রদক্ষিণ করে আবার পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয় এবং সেখানে মূল সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সকল ‘দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।