১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। তিনি বলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট যদি ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু না করত, তাহলে এই দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত।’
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘মুক্তিদ্বুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি চারণ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সেনাবাহিনীতে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার ছিল না। জগন্নাথ কলেজে প্রভাষকের চাকরিও পেয়েছিলাম, পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’ তিনি জানান, পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় থাকার সময় ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি মেজর মোহাম্মদ মালিক তাকে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন।
পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি কাকুলের মাঠে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি তুলে ধরে স্পিকার বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের মধ্যে ফুটবল খেলা চলার সময় হাফপ্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা, চোখে সানগ্লাস লাগানো এক ব্যক্তি রেফারি হুইসেল বাজিয়ে আমাকে ডাকেন। হ্যান্ডশেক করে বললেন, “আই অ্যাম মেজর জিয়া। তুমি পাস আউট করে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যাবে। মাই ব্যাটালিয়ন ইজ নোন অ্যাজ সিনিয়র টাইগারস।”’
স্পিকার আরও বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক, এ দেশের মহান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যাঁর উৎসাহ ও কথায় অন্যদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে আমি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলাম।’
১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন নির্বাচনটি হয়েছিল ছয় দফার ভিত্তিতে। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে সম্পদ ও সুযোগের চরম বৈষম্য ছিল। পশ্চিমের চারটি প্রদেশকে যেভাবে সমৃদ্ধ করা হতো, পূর্ব পাকিস্তান সেভাবে অর্থ বরাদ্দ না পেয়ে অবহেলিত ছিল। মূলত তখনকার আন্দোলনটি ছিল ‘সাম্যের আন্দোলন’। এই বৈষম্যকে সম্বল করেই আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে জিতেছিল।’
মুক্তিযুদ্ধকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক যুদ্ধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই মন্তব্য করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটি ছিল পুরোপুরি জনতার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালে আমাদের মাত্র ৫টি ব্যাটালিয়ন ও চার হাজার সৈনিক ছিল। কিন্তু এর বাইরে ছাত্র, শিক্ষক, রিকশাচালক, দোকানদার, পিয়নসহ সব পেশার প্রায় লাখো সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। আমরা ভাগ্যবান যে ১৯৭১ সাল দেখতে পেয়েছি।’