সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বন্যার পানিতে ডুবল কবরস্থান, ভেলায় ভাসিয়ে পাহাড়ে দাফন অটোরিকশাচালকের লাশ

চারদিকে থই থই করছে বন্যার পানি। ঘর-বাড়ি, উঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক কবরস্থান—সবই এখন পানির নিচে। এই চরম বাস্তবতার মধ্যে এক ব্যক্তির মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে

চারদিকে থই থই করছে বন্যার পানি। ঘর-বাড়ি, উঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক কবরস্থান—সবই এখন পানির নিচে। এই চরম বাস্তবতার মধ্যে এক ব্যক্তির মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হলো। এরপর একটি অটোরিকশায় করে দুই কিলোমিটার দূরের এক পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে সম্পন্ন করা হলো দাফন।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৬০)। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা এখনও বন্যার পানিতে ভাসছে। জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নে ফোরকানের ঘর ও পারিবারিক কবরস্থান কোমরসমান পানিতে ডুবে থাকায় বাড়িতে লাশের গোসল বা দাফন কোনোটিই সম্ভব ছিল না। শুক্রবার সকালে বন্যার পানিতে জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন ফোরকান। পরে বিকেল ৩টার দিকে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান।

ফোরকানের ছেলে রাসেল উদ্দিন তীব্র ক্ষোভ ও ও ব্যথার সাথে জানান, বাড়ির পাশেই আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদিসহ স্বজনদের কবর রয়েছে। বাবার ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর যেন তাকে দাদা-দাদির পাশেই কবর দেওয়া হয়। কিন্তু বন্যার কারণে বাবার সেই শেষ ইচ্ছাটা আমরা পূরণ করতে পারলাম না।

বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দস্তিদারহাটে নিয়ে ফোরকানের লাশের গোসল ও কাফনের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ এলাকায় জানাজা শেষে একটি পাহাড়ের খাস জায়গায় তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।

জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুরো এলাকা প্লাবিত থাকায় লাশ ভেলায় করে শুকনো স্থানে নিয়ে যেতে হয়েছে। পরে পাহাড়ি এলাকায় খাস জমিতে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে ওই ব্যক্তি স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে দূরে সরকারি খাস জায়গায় তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে লাশ এভাবে ভেলায় ভাসিয়ে না নিয়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল বা প্রশাসনকে জানালে আমরাই যথাযথ দাফনের ব্যবস্থা করে দিতাম।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন