সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

৮১ ফুটের রামমূর্তি নির্মাণে আলোচিত হরিদাস সিআইডির হাতে গ্রেফতার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। তিনি জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির একটি বিশেষ দল পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে হরিদাসকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলার আসামি হিসেবে সিআইডির বিশেষ দল তাকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ সিআইডিকে সহযোগিতা করেছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে র‍্যাব-৩ তাকে গ্রেফতার করেছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভুয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি-বাণিজ্য, টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হরিদাসের আদি বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী বাজার এলাকায়, তিনি শ্রী গোপীনাথের ছেলে। অল্প বয়সে ভারতে গিয়ে সেখানে লেখাপড়া ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরে দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেন এবং সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন বলেও তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে পলাশবাড়ীতে প্রায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি ও মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে।

স্থানীয়দের দাবি, একসময় আর্থিকভাবে অসচ্ছল হিসেবে পরিচিত হরিদাস কীভাবে অল্প সময়ে শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করলেন—সেই অর্থের উৎস তদন্তের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছিল। জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারাও তার সম্পদের উৎসের স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ মানিলন্ডারিং মামলায় সিআইডির এই গ্রেফতারের পর হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের কর্মকাণ্ড ও তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন