জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান সংশোধনসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তার তৎপরতা নেই।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত জুলাই নারী সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অবদান ও আত্মত্যাগের কথা সব সময় স্মরণ করা হয়। নারী কোটার পরিবর্তে যৌক্তিক কোটা সংস্কারের দাবিতে নারী-পুরুষ সবাই রাজপথে নেমেছিলেন। আন্দোলনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় তাদের নানা উপায়ে টার্গেট করা হয়। তবে আন্দোলনের পর নারীদের জন্য সেই রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এরপরও নারীরা আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছেন। নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি নারী শক্তির প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন। সে সময় যে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল, তিনি এখনও বহাল আছেন। ১৪ জুলাই নারীদের ভূমিকার কারণে ১৫ জুলাই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। নারীদের ওপর হামলার দৃশ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও রাষ্ট্র প্রান্তিক নারীদের খোঁজখবর রাখতে পারেনি। তাদের পক্ষ থেকেও তা সেভাবে সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে নারীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে নারী শক্তির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ সরকার এসে কেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সরিয়ে দিয়েছে, তা তার জানা নেই। ইনুর ১০ বছরের সাজা কোনওভাবেই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, ইনু গণহত্যার অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন।
সমাবেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনও ছাড় দেওয়া যাবে না। শেখ হাসিনা একজন নারী নন, তিনি ফ্যাসিস্ট, হত্যাকারী ও খুনি। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও তার ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়ে গেছে। রাষ্ট্রকে এখনো পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফরিদা আখতার বলেন, জুলাইয়ের প্রেরণা যেন কেউ ভুলে না যায়। নারীদের সামনে নিয়ে আসার মতো কাজ সবাইকে করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।#
হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিবাদে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকালে কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। স্বতঃস্ফূর্ত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান করেন এবং নিজেদের অধিকার ও দাবির পক্ষে স্লোগান দেন। এসময় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মোটরসাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে জড়ো হয়ে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। কর্মসূচি চলাকালে সেখানে এক বিএনপি নেতার সাথে বাগবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার জের ধরে একটি মোটরসাইকেল পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি পণ্ড করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় এলাকা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া নেতাকর্মীদের বহনকারী চারটি মাইক্রোবাস, একটি বাস ও দুটি ইজিবাইক জব্দ করেছে পুলিশ।
এদিকে জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকায়ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশের উদ্দেশ্যে জড়ো হতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ মিছিলের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।