সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শেষ ওভারের নাটকীয়তায় সিলেটের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক বিপিএলের চতুর্থ ম্যাচে সিলেট টাইটান্স রোমাঞ্চকর উত্তেজনায় এক উইকেটে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী জয়সূচক রানটি এসেছে একেবারে শেষ বলে। শুরুতেই ব্যাটিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিপিএলের চতুর্থ ম্যাচে সিলেট টাইটান্স রোমাঞ্চকর উত্তেজনায় এক উইকেটে হারিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী জয়সূচক রানটি এসেছে একেবারে শেষ বলে।

শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে নোয়াখালী। টস হেরে নোয়াখালীর টপ অর্ডার সিলেটের বোলিং তোপে ভেঙে পড়ে । মোহাম্মদ আমির তার প্রথম বলেই শূন্য রানে সাজ ঘরে ফেরান মাজ সাদাকাতকে । এরপর আরো দুই জন ব্যাটার হাবিবুর রহমান সোহান ও হায়দার আলী রানের খাতা না খুলে ফিরে যান ।

নোয়াখালী তাদের দুই ওভারে ৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে । অধিনায়ক সৈকত আলীর ধীর গতির ২৯ বলে ২৪ রানের ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টায় অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি চাপ সামলে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ৫১ বলে ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। শেষদিকে জাকের আলীর ১৭ বলে ঝড়ো ২৯ রানে কিছুটা গতি পায় নোয়াখালী। তবে খালেদ আহমেদ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়ায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে নোয়াখালীর ইনিংস।

সিলেটের হয়ে খালেদ আহমেদ দুর্দান্ত বোলিং করে এক ওভার মেডেন দিয়ে ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হোন। এছাড়া সায়েম আইয়ুব দুটি ও মোহাম্মদ আমির নেন একটি উইকেট ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিলেট টাইটান্স শুরুতেই সাইম আইয়ুবকে শূন্য রানে হারান। দ্রুত ফিরে যান রনি তালুকদার ও জাকির হাসান। তাতে রান তাড়া করতে চাপে পড়ে যায় সিলেট।

এরপর ম্যাচের সিলেটকে ম্যাচে ফেরান পারভেজ হোসেন ইমন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ বলে ৬০ রান করেন তিনি। অপর প্রান্তে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৭ বলে ৩৩ রান করে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন। ৩ উইকেটে ১১৭ রান তুলে জয়ের পথে বেশ স্বস্তিতেই ছিল তারা। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে নাটকীতায় মোড় নেয় ম্যাচ। ইমন আউট হওয়ার পর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে নোয়াখালী। মেহেদী হাসান রানা ম্যাজিকে হ্যাটট্রিকসহ তুলে নেন চার উইকেট। সঙ্গে চাপ ধরে রাখেন হাসান মাহমুদ ও জহির খানও। তাতে মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সিলেট। শেষ ওভার জন্ম দেয় টান টান উত্তেজনার। ৬ বলে দরকার ছিল ১৩ রান। হাতে দুই উইকেট। প্রথম দুই বলে ডট দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন সাব্বির হোসেন। তৃতীয় ডেলিভারিটি নো দিলে পরের দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে সিলেটকে ম্যাচে ফেরান ইথান ব্রুকস। পঞ্চম বলে ইথান ব্রুকস (১৬) দৌড়ে রান নিতে গিয়ে জাকের আলীর সরাসরি থ্রোতে রানআউট হলে আবার ম্যাচ নোয়াখালীর দিকে হেলে পড়ে। ১ বলে তখন দরকার ২ রান। কিন্তু পরের ডেলিভারিটি ওয়াইড দিয়ে ম্যাচ হাত থেকে ফসকে যেতে দেন সাব্বির। ষষ্ঠ বৈধ ডেলিভারিতে লেগ বাই থেকে দৌড়ে রান নিয়ে শেষ হাসি হাসে সিলেট।

৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা। ১৯ রানে দুটি নেন হাসান মাহমুদ। একটি করে নিয়েছেন রেজাউর রহমান রাজা ও জহির খান।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন