সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের নিঃশর্ত মুক্তি এবং গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতার দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের নিঃশর্ত মুক্তি এবং গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতার দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, “মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অংশগ্রহণ ছিল। সরকার গঠনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান জানান।

ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরে কত উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে আইনি কোনো নির্ধারিত সীমা নেই। যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি জানতেন। এরপরও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় না।

যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পুলিশের তথ্য মতে, হরিদাস চন্দ্রের বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবার হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা ও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যা হুন্ডি ও অবৈধ নগদ লেনদেন বলে সন্দেহ করছে সিআইডি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘তৌহিদ ইসলাম’ নাম ধারণ করেন এবং বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি ও সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বনানী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় প্রতারণার মামলাও রয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন