সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের পদত্যাগ ও তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ, কুশপুতুল দাহ

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও কাণ্ডের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তাঁর

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও কাণ্ডের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তাঁর নিজ এলাকা। সংসদ সদস্যের পদত্যাগ ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুতুল দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা সদরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রতীকী কুশপুতুল দাহ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন সোলাইমান কবির, অ্যাডভোকেট আশেক ইলাহী মুন্না, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল রহমান, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত আলী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও শফিকুল ইসলাম দুলু।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংসদ সদস্যকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘটনাটি নিয়ে জনমনে গভীর বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই একে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ওই তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। সংসদ সদস্য ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যেও নানা অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, একজন জনপ্রতিনিধির ঘিরে তৈরি এমন স্পর্শকাতর ঘটনার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না এলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সমাবেশ থেকে তাঁরা অনতিবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, ওই তরুণী তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির ষড়যন্ত্রের অংশ। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন