সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘ফাঁসি দিলেও আসব’: কিয়োডো নিউজকে সাক্ষাৎকারে আইনি লড়াইয়ের প্রত্যয় শেখ হাসিনার

সম্ভাব্য কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজার ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজ-কে

সম্ভাব্য কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজার ঝুঁকি জেনেও দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজ-কে দেয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানান, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কিংবা প্রাণনাশের ভয় সত্ত্বেও তিনি বাংলাদেশে ফিরে আদালতে হাজির হবেন।

বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত ৭৮ বছর বয়সী এই আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে, এমনকি ফাঁসিতে ঝোলানোর চেষ্টাও করতে পারে। আমি সেই ঝুঁকির কথা জানি।

তার বিরুদ্ধে করা মামলা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সম্ভাব্য বিচারকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ। নয়াদিল্লি আবেদনটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করছে।

এর আগে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার তাকে দেশে এনে নিরপেক্ষ বিচারের মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ আইনি সুযোগ দেওয়া হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন ও সহিংসতা প্রসঙ্গে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আন্দোলনটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং তিনি কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে স্বাধীন বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা প্রয়োজন। বল প্রয়োগে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির উৎস নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করলেই আসল অপরাধীরা চিহ্নিত হবে।

দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ কেবল দেশের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৈশ্বিক সহযোগীদের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের এখন প্রয়োজন ক্ষত নিরাময়, তবে পুনর্মিলনের নামে অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া যাবে না। বিচার হতে হবে সঠিক আইনি প্রক্রিয়ায়। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত থাকা ও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, দ্রুত গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গেলে আগামী ১০ বছর হতে পারে বাংলাদেশের জন্য পুনরুদ্ধার ও নবায়নের দশক।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন