সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল ভারতের প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত বিখ্যাত ও প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান ‘সারনাথ’ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত বিখ্যাত ও প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান ‘সারনাথ’ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সারনাথের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারতের ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৫টিতে।

এই অর্জন উপলক্ষে ভারত সরকার ও দেশটির জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক ও প্রতিনিধি টিম কার্টিস বলেন, আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সারনাথ বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য পরম তীর্থস্থান ও অনুপ্রেরণার উৎস। এখানেই গৌতম বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মদেশনা দিয়ে করুণা, প্রজ্ঞা ও শান্তির বাণী প্রচার করেছিলেন। সারনাথের মন্দির, স্তূপ ও বিহার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের বিশ্বাস ও অভিন্ন মানবিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এই অসাধারণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন নগরী বারাণসীতে অবস্থিত সারনাথের প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য নিদর্শনগুলো মূলত এই বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বোধিলাভ করার পর গৌতম বুদ্ধ সারনাথে এসে তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের কাছে প্রথম ধর্মদেশনা দেন। বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে এই অবিস্মরণীয় ঘটনাকে ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে রাজা, দাতা ও ভিক্ষু সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় সারনাথ বৌদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণার বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং বিশ্বের চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থস্থানের একটি হিসেবে মর্যাদা পায়। বৌদ্ধ ঐতিহ্যে স্থানটি ‘ঋষিপতন’ বা ‘মৃগদাব’ নামেও পরিচিত।

বর্তমানে সারনাথের প্রধান ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে দুটি সংরক্ষিত প্রত্নস্থল চৌখণ্ডী স্তূপ। যার মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত ধামেখ স্তূপ , ধর্মরাজিকা স্তূপ এবং ঐতিহাসিক ডিয়ার পার্ক ।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের বিশ্ব ঐতিহ্য কনভেনশনের অধীনে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি অসাধারণ সার্বজনীন মূল্য ধারণকারী স্থানগুলোকে এই তালিকাভুক্ত করে। কনভেনশন গৃহীত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৭০টি দেশের ১ হাজার ২৪৮টি সাংস্কৃতিক, প্রাকৃতিক ও মিশ্র স্থান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন