সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরের ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী তিন দিনে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া ধরলা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করার সম্ভাবনা থাকায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের এবং সোমেশ্বরী-ভুগাই-কংস অববাহিকার পানি বাড়ায় শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু নিম্নাঞ্চলেও প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে কেবল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আগামী দুই দিন সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতীয় উজানে মাঝারি থেকে ভারী, আবার কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় দিনে রংপুর বিভাগ ও উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা থাকায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে নদ-নদীর সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদী দুটির পানি বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কিছুটা বাড়লেও যমুনার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে উভয় নদীর পানি বাড়লেও বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। গঙ্গার পানি কিছুটা কমেছে এবং পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিন পদ্মার পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে বাড়লেও বিপৎসীমা অতিক্রমের কোনো শঙ্কা নেই। সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বাড়ায় ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী নদীর পানি বাড়লেও গোমতী ও সেলোনিয়ার পানি কিছুটা কমেছে, যা আগামী কয়েক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন