সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পর্দার আড়ালে আলোচনা: স্বাস্থ্যগত কারণে কারামুক্ত হতে পারেন ইমরান খান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে তাকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। দেশটির

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে তাকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার গুঞ্জন তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শক্তি এবং ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, তাকে কারামুক্ত করার বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।

রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নিভৃত প্রকোষ্ঠে গত তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দী রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক সরকারপ্রধান। গত কয়েক মাস ধরে স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে তার সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। সম্প্রতি চোখে অস্ত্রোপচারের পর তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য অবজারভার’-কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম অভিযোগ করেছেন, তাদের বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোনো নিরপেক্ষ যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে স্বাস্থ্যগত কারণে (মেডিকেল গ্রাউন্ডে) তার মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের ভাই নওয়াজ শরীফকেও অনুরূপ সমঝোতার মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে ইমরান খানের ক্ষেত্রে মুক্তির বিনিময়ে দেশত্যাগ করা, রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে দূরে থাকা এবং নীরবতা অবলম্বনের মতো কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়কের আপসহীন চরিত্রের কারণে এই শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্টাফোর্ড স্মিথ মনে করেন, ইমরান খান নিজের নীতি থেকে বিচ্যুত হবেন না, অন্যদিকে সামরিক নেতৃত্বও তাকে সহজে মুক্তি দেওয়ার ঝুঁকি নিতে নারাজ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসলেও পরবর্তীতে সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা চলছে।

যদিও সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, ইমরানের বিষয়ের ফয়সালা কেবল আইনি পথেই সম্ভব এবং স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আপাতত নেই।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন