সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের মার্কিন সেফ হাউজে আশ্রয়: ফরহাদ মজহারের বিস্ফোরক বক্তব্য

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে আশ্রয় প্রদান এবং সরকার পতনের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কলামিস্ট ও সমাজ চিন্তক ফরহাদ মজহারের এমন

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাসে আশ্রয় প্রদান এবং সরকার পতনের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল কলামিস্ট ও সমাজ চিন্তক ফরহাদ মজহারের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি অনলাইন গণমাধ্যম আলাপ-এর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বিদেশি দূতাবাস আন্দোলনকারীদের জন্য ‘সেফ হাউজ’ পরিচালনা করেছিল। জীবন বাঁচাতে কিছু সমন্বয়ক সেখানে আশ্রয় নেন এবং সেই সেফ হাউজগুলোতে তাদের ‘মগজধলাই’ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি তুলতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।

ফরহাদ মজহারের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নানা বিশ্লেষণ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরহাদ মজহারের ঘনিষ্ঠ এক মানবাধিকার সংগঠক জানান, তিনি শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ চেয়েছিলেন, তবে কেবল সরকার প্রধানের দেশত্যাগ বা ক্ষমতার পরিবর্তন চাননি। তিনি হয়তো অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনার পক্ষে ছিলেন। তাছাড়া তাঁর মতে, বাংলাদেশের বামপন্থিরা না বুঝেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘রেজিম চেঞ্জ’ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে।

তবে পরবর্তীতে এই মন্তব্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফরহাদ মজহার সেফ হাউজের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও পদত্যাগের কথা শিখিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা কেউ আর ফ্যাসিবাদের উত্থান চাই না। আমি সবসময় সঠিক জায়গাতেই আছি, কিছু গণমাধ্যম অহেতুক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পেছনে লেগেছে।

মানবাধিকার সংগঠক রেজাউর রহমান লেনিন ফরহাদ মজহারের দাবিকে ‘তথ্যগত বিভ্রাট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় নাহিদ ইসলামসহ ৪ সমন্বয়ক নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যোগাযোগ করেছিলেন, যা তাদের অধিকার। সে সময় বিদেশি দূতাবাসগুলো সাড়া না দিলেও জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয় থেকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। মার্কিন দূতাবাস সরকার পতনের কথা শিখিয়ে দিয়েছে এমন দাবি অসত্য।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব মন্তব্য করেন, ফরহাদ মজহার একেক সময় একেক কথা বলেন, যা বিভ্রান্তিকর। সে সময় সমন্বয়কদের নিরাপত্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে খোঁজা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যাঁর সুপারিশে অনেকে সুবিধা পেয়েছেন, এখন তাঁর মুখে এমন বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।

একইভাবে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএ-র কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য বাকী বিল্লাহও ফরহাদ মজহারের দাবি অমূলক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রেজিম পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বামপন্থিদের অংশ নেওয়ার কথার কোনো ভিত্তি নেই; বাম সংগঠনগুলো সবসময় দেশের প্রয়োজনেই আন্দোলন করে আসছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন