গণতন্ত্রকে টেকসই করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক দলগুলোর পাশাপাশি বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভবিষ্যতেও দেশে গণতন্ত্র ও তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় সেই ঐতিহাসিক ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের গণতন্ত্র নস্যাতের হুমকি মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক যুগপৎ আন্দোলনে রাজনৈতিক দলসমূহের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চড়াও মনোভাবের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনও ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি। যেকোনো সরকারকে মূল্যায়ন করতে হলে তাকে নির্দিষ্ট একটি সময় দিতে হয়। কিন্তু একটি গোষ্ঠী এখনই সরকার উৎখাত করে ক্ষমতায় বসতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, যারা আগামী ডিসেম্বরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে চায়, এর সমস্ত দায়দায়িত্ব তাদেরকেই নিতে হবে। দেশের জনগণ অতীতেও রাজপথে থেকে যেমন সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে, সামনের দিনেও যেকোনো ষড়যন্ত্র রাজপথেই প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনো রাজনৈতিক সংকট ও গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এজন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত দলগুলোকে পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হারুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খান মো. নুরে আলমসহ অন্যান্য বামপন্থি ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।