সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

উত্তর প্রদেশে ১০ রুপিতে গরুর মূত্র ক্রয়: গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা নাকি রাজনৈতিক বিতর্ক?

ভারতের উত্তর প্রদেশে গরুর মূত্র ক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি অভিনব পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে

ভারতের উত্তর প্রদেশে গরুর মূত্র ক্রয় ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একটি অভিনব পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে প্রতি লিটার গরুর মূত্র ১০ রুপিতে কেনা হচ্ছে। গরুর বর্জ্যকে কৃষিকাজে কাজে লাগানো এবং গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষ করে যেসব গরু বয়সের কারণে দুধ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, সেগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে আবার কীভাবে উপযোগী করে তোলা যায়, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে।

বুলন্দশহরের সিয়ানা তহসিলের নারসাইনা গ্রামে ড. প্রবীণের নেতৃত্বাধীন একটি ‘কৃষক উৎপাদক সংগঠন’ এর সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। গ্রামগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার মূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। সহজে মূত্র জমা রাখার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার বিশেষ সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি লিটার ১০ রুপি হলেও ভবিষ্যতে দর বাড়িয়ে ২০ রুপি করার চিন্তাভাবনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি খামারি এতে উৎসাহী হন।

এই প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্থানীয় নারীদের অংশগ্রহণ। মূত্র সংগ্রহ করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তারা লিটারপ্রতি ২ রুপি কমিশন পাচ্ছেন। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ নারী এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। সংগ্রহ বাড়লে কোনো কোনো নারী বছরে সর্বোচ্চ ২ লাখ রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংগৃহীত মূত্র প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও প্রাকৃতিক বালাইনাশক তৈরি করে কৃষিকাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর কৃষকদের নির্ভরতা ও খরচ দুটোই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খান এই প্রকল্পকে ‘নতুন কেলেঙ্কারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজ্যজুড়ে বিদ্যমান গোশালাগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা এবং গবাদিপশুর সার্বিক সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আপাতত বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে সীমাবদ্ধ থাকা এই প্রকল্পের ফলাফল ইতিবাচক হলে উত্তর প্রদেশের অন্যান্য জেলাতেও এই ক্রয়কেন্দ্র সম্প্রসারণ করা হতে পারে। একদিকে পরিবেশবান্ধব কৃষি ও আয়ের নতুন সুযোগ, অন্যদিকে বাস্তব সুফল ও স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী সমালোচনা সব মিলিয়ে সরকারের এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন