কূটনৈতিক পাড়া ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বেষ্টনীতে ঘেরা ঢাকা-১৭ (গুলশান, বনানী, মহাখালী ও সেনানিবাস) আসনে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, বিশাল শোডাউন এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই রাজপথ কাঁপিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এমন বীরত্বপূর্ণ অবস্থান এবং পুলিশের বাধা উপচে ককটেল ফাটিয়ে এলাকা ত্যাগ করার ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, দিনের আলোতেই হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গুলশানের রাজপথে নেমে আসেন। তারা সেখানে বিশাল শোডাউন পরিচালনা করেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করতে এলে নেতাকর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে বীরদর্পণে স্থান ত্যাগ করেন।
রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত আসনে খোদ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা এমপি থাকা সত্ত্বেও তাঁর চোখের সামনেই এভাবে আওয়ামী লীগের শোডাউন হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন তারেক রহমান। নেটিজেনরা তাঁকে নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ শুরু করেছেন।
অনেকেই রসিকতা করে লিখছেন— “নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই যাঁর কোনো আধিপত্য নেই, তিনি কীভাবে দেশ সামলানোর স্বপ্ন দেখেন?” অনেকে আবার কটাক্ষ করে তাকে এমপি পদ থেকে বরখাস্ত কিংবা দলীয় নেতৃত্ব থেকে অবহেলার দায়ে প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন। এর আগে অন্য যেকোনো স্থানে মিছিল হলে যেভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও এমপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতো, এবারও তারেক রহমানের সক্ষমতা ও প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে তীব্র হাস্যরস তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনীতিতে বইছে ট্রোলের ঝড়। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের ভঙ্গুর নেতৃত্ব এবং দলীয় ব্যর্থতাকে লক্ষ্য করে একের পর এক কড়া কটাক্ষ ও উপহাসমূলক পোস্ট দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, আওয়ামী সমর্থক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা ঘটনাটিকে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে এক চরম বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, গত দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্বিচার জুলুম, অত্যাচার ও অন্যায় নির্যাতন চালিয়েছে বর্তমান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার, এটি ছিল তারই ক্ষুব্ধ বহিঃপ্রকাশ। পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যাওয়া আওয়ামী নেতাকর্মীরা যে আর একচুলও পিছু হঠবে না, গুলশানের রাজপথে ককটেল ফাটিয়ে তারই স্পষ্ট জানান দিল তারা।
বুদ্ধিজীবীদের একাংশ স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, গুলশানের এই শোডাউনটি কেবল একটি ‘ছোট ট্রেইলার’ মাত্র। আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ রাজপথে নামার দিন-তারিখ ও প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত হবে, তখন পুরো ঢাকা শহর এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হবে— যা সামাল দেওয়া বর্তমান শাসকজোটের জন্য স্রেফ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সুরক্ষিত গুলশানে এই দুঃসাহসিক শোডাউন প্রতিপক্ষের ভিত্তি যে নাড়িয়ে দিয়েছে, তা এখন রাজপথের আলোচনার প্রধান বিষয়।