ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে দুই নারী নৃত্যশিল্পী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কিশোরী রয়েছে। তিতাস নদীতে চলন্ত নৌকায় ঘটা এই বর্বরোচিত ঘটনায় সরাইল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই নারীর বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায়। তারা পেশাগতভাবে চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ থেকে নম্বর নিয়ে রাকিব মিয়া নামের এক যুবক ৯ হাজার টাকায় চুক্তিতে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের কথা বলে তাঁদের আমন্ত্রণ জানায়। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরাইল বিশ্বরোড পৌঁছালে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাঁদের অটোরিকশায় করে তিতাস নদীর তীরে নিয়ে দ্রুত যাওয়ার কথা বলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলে।
নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নৌকার ছাউনির ভেতর রাকিবসহ তার সহযোগীরা দুই নারীকে পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। সাথে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিতে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা ভুঁইয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তার জন্য প্রথমে নাসিরনগর থানায় গেলে ঘটনাস্থল সরাইল থানার অধীনে হওয়ায় সরাইলে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন নাসিরনগর থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার রাতেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এজাহার দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মূল আসামিসহ বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের আইনের আওতায় এনে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।