অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ ‘মনগড়া নয়’ বলে দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ (এমএলআর)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে।
দুদক সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুবাইয়ে ৪,৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩,০০০ কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২,০০০ কোটি, সুইজারল্যান্ডে ১,৫০০ কোটি টাকাসহ পর্তুগালে জমি কেনা বাবদ মোট প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগ অনুসন্ধানের অধীন রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ৩৬টি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বাণিজ্য, ঢাকা ওয়াসার এমডি ও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে ঘুষ গ্রহণসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব কাজে তার বাবা ও দলীয় এপিএস-পিও সিন্ডিকেট গঠন করে প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ইতিমধ্যে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টিম অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র দুদকে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন আসিফ মাহমুদের পাঠানো আইনি নোটিশের জবাবে দুদক সচিব জানান, আইন ও বিধি মেনেই অনুসন্ধান পরিচালিত হচ্ছে এবং অনুসন্ধান শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।