সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিলো সরকার

সাইবার অপরাধ তদন্ত এবং ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রমকে স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

সাইবার অপরাধ তদন্ত এবং ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রমকে স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে প্রাথমিকভাবে পুলিশের বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকস ব্যবহার করেই এই বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-৩ শাখা থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানভীর-আল-নাসীফ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের প্রাথমিক সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নতুন পদ সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্তকরণসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পুলিশ সদর দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ অধিদফতর থেকে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে পূর্ণাঙ্গ কাঠামো অনুমোদনের আগেই বিদ্যমান জনবল দিয়ে এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

কেন এই পৃথক ইউনিট?

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দফতর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পৃথকভাবে ও বিচ্ছিন্নভাবে সাইবার অপরাধের তদন্ত করছে। পুলিশের প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের কর্মকর্তাদের এক ছাতার নিচে এনে একটি শক্তিশালী সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তবে নতুন এই ইউনিট চালুর পর বিদ্যমান অন্যান্য ইউনিটের কাজের পরিধি বা এখতিয়ার কেমন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা পরে জানানো হবে।

দেশজুড়ে সাইবার ও ফরেনসিক ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা:

এদিকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে দেশজুড়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব বিস্তারেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যন্ত প্রযুক্তিগত আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে।

এই কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অভিজ্ঞতার বিনিময়ে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। খুব শিগগিরই সিআইডির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপিসহ পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনের সাইবার ল্যাব ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে দেশব্যাপী ল্যাবের সরঞ্জামাদি ও কাঠামো চয়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নীতিগত অনুমোদনের মাধ্যমে উদ্যোগটি প্রশাসনিক বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাল। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দফতরে সুপারিশকৃত প্রস্তাব অনুমোদিত হলেই এই ইউনিটের চূড়ান্ত রূপরেখা, বাজেট ও বিস্তৃতি স্পষ্ট হবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন