নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপসহ নানাবিধ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাবি শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি জানান, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০২৫ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালাউদ্দিন আম্মারের এই পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নৈতিক পদস্খলন, ধর্মীয় ইবাদতে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অর্থনৈতিক অনিয়ম ও সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সালাউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে চূড়ান্তভাবে তার পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, আম্মারের বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও ফৌজদারি অপরাধের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার কোনো অনলাইন বা অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা কেবল দাপ্তরিক প্রয়োজনে তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আম্মারের বিরুদ্ধে। সে সময় তৎকালীন শাখা শিবির সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রথমবার তার পদ স্থগিতের কথা জানানো হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।