সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পাকিস্তানে ঐতিহ্যবাহী রামলীলা মন্দির ভেঙে ফেলার চেষ্টা রুখে দিলো নাগরিক সমাজ

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খানের রহিম বাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রামলীলা মন্দির’ ভাঙার চেষ্টা রুখে দিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও হিন্দু সম্প্রদায়। প্রতিবাদের মুখে

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খানের রহিম বাজারে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রামলীলা মন্দির’ ভাঙার চেষ্টা রুখে দিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও হিন্দু সম্প্রদায়। প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঐতিহাসিক ওই ঐতিহ্যবাহী মন্দির ভবনটি ভেঙে সেখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর বরাতে জানা গেছে, মন্দিরটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সুশীল সমাজের কর্মী ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তাদের তীব্র প্রতিবাদ ও হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়লে সহকারী কমিশনার হামিদ সিদ্দিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি সিলগালা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

ঘটনার পরপরই ডেরা ইসমাইল খানে নাগরিক সমাজের সভাপতি সোহেল আহমেদ আজমির কার্যালয়ে এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কিশোর কুমার, বিশিষ্ট সমাজকর্মী মুহাম্মদ নওমানসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহাসিক মন্দির ভাঙার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান এবং বিষয়টি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে উত্থাপনের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ডেরা ইসমাইল খানের প্রায় ৪০০টি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ভবনকে ‘উচ্ছেদকৃত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড’ (ইটিপিবি) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই ধরনের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেখানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হলো—তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে জেলা প্রশাসন, জাতীয় পরিষদের স্পিকার এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে লিখিত অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন