আজ ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার মৌলিক নীতিগুলো উদযাপন, বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা মূল্যায়ন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ উৎসর্গকারী সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন আজ। ২০২৬ সালে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে “শান্তির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।”
এই দিবসের সূচনা হয়েছিল আফ্রিকার সাংবাদিকদের একটি সাহসী উদ্যোগের মাধ্যমে। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত নামিবিয়ার উইন্ডহোক শহরে ইউনেস্কোর উদ্যোগে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংবাদিকরা একটি স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যমের দাবিতে ‘উইন্ডহোক ঘোষণা’ (Windhoek Declaration) প্রদান করেন।
এই ঘোষণার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩ মে তারিখটিকে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকেই প্রতিবছর এই দিনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ানো হয়।
২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (RSF) এবং ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো বলছে, গত দুই দশকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারা বিশ্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এবং স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকরা হত্যা, গুম ও কারাবরণের শিকার হচ্ছেন।
অনেক দেশেই ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বা ‘মানহানি’র দোহাই দিয়ে কঠোর আইন তৈরি করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তেমনি সাংবাদিকদের ওপর ডিজিটাল নজরদারিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫২তম। যদিও বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবুও মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকরা এখনো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে এখনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গণমাধ্যমগুলো তাদের হারানো স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে বলে অনেকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আজকের এই দিনে গণমাধ্যমকর্মী ও বিশ্লেষকদের দাবি কেবল কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তবেও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীন সংবাদমাধ্যম হলো ‘অক্সিজেন’-এর মতো।