সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

যশোরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিএনপি নেতার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়

যশোরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় নিহতের পরিবারে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ

যশোরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় নিহতের পরিবারে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী শামীমা বেগম। এসময় তার মেয়ে ইলারা খাতুন রাত্রিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৮ এপ্রিল উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর ৩০ এপ্রিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের জামাতা বাসেদ আলী পরশ। তার মুক্তির পর থেকেই পরিবারটি নতুন করে হুমকি ও আতঙ্কের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিকেলে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কে নিজ বাসার সামনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় নগর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীনল্যান্ড প্রোপার্টিজের মালিক আলমগীর হোসেনকে। মোটরসাইকেলে এসে বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ৪ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন বলে জানানো হয়।

তবে মাত্র চার মাসের ব্যবধানে প্রধান আসামির জামিনে মুক্তি পাওয়ায় পরিবারটি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমা বেগম অভিযোগ করেন, আসামির বাবা একজন আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এবং আসামি নিজেও আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকায় আইনি সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত জামিন পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিরা কারাগারে থাকাকালীন সময়েও বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিত। এখন জামিনে বেরিয়ে এসে সরাসরি ও লোক মারফত হুমকি দিচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, প্রধান আসামির বোনসহ তাদের সহযোগীরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে, যার ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্বজন রেদওয়ান হোসেন, ইনামুল ও তবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পরিবার দ্রুত আসামিদের জামিন বাতিল এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন