সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নির্ধারণে ছিল ‘কিচেন কেবিনেট’, বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন পরিচালনায় একটি অনানুষ্ঠানিক ও অত্যন্ত প্রভাবশালী ৭ সদস্যের ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল। সরকারের আনুষ্ঠানিক কেবিনেটকে পাশ

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন পরিচালনায় একটি অনানুষ্ঠানিক ও অত্যন্ত প্রভাবশালী ৭ সদস্যের ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল। সরকারের আনুষ্ঠানিক কেবিনেটকে পাশ কাটিয়ে এই গোপন দলই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত বলে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম. তৌহিদ হোসেন।

২৪ মে তারিখে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেনের এই দাবির পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।মঙ্গলবারের ‘গোপন বৈঠক’ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তক্ষেপতৌহিদ হোসেনের দাবি অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই কিচেন কেবিনেটের নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। সরকারের আনুষ্ঠানিক ফোরামে আলোচনার আগেই এই ক্ষুদ্র বলয় থেকে সমস্ত এজেন্ডা ও নীতি নির্ধারণ করা হতো।

তিনি অভিযোগ করেন, এই কিচেন কেবিনেটের একাধিক সদস্যের অনভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দপ্তরের কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন। এই অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তৎকালীন সময়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় ঊর্ধ্বতন মহলের অনুরোধে তিনি শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকেন।অন্ধকারে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিএই কিচেন কেবিনেটের সবচেয়ে বড় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি অভিযোগ করেন, ভোটের মাত্র ৩ দিন আগে তড়িঘড়ি করে হওয়া এই চুক্তি সম্পর্কে তার মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা এতে বিন্দুমাত্র যুক্ত ছিলেন না। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টার নেপথ্য ভূমিকায় এই চুক্তি সম্পাদিত হয় বলে সংবাদে জানা গেছে।কেবিনেটের সদস্যদের নিয়ে ধোঁয়াশা ও আসিফ মাহমুদের অস্বীকৃতিকিচেন কেবিনেটের সুনির্দিষ্ট সদস্যদের তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই কেবিনেটে নিজের সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকার কথা এখন শোনা গেলেও তিনি নিজে কখনই এর অংশ ছিলেন না।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবিনেটের বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই প্রবণতাটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। বরং একটি নির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণী বলয় তৈরি করে জবাবদিহিতা এড়ানো এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে এই অনানুষ্ঠানিক ‘কিচেন কেবিনেট’ কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছিল।

সাবেক উপদেষ্টাদের একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের শাসনের ভেতরের গোপন সমীকরণগুলো এখন জনসাধারণের সামনে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন