সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত ৬ বাংলাদেশিকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান

ইউরো বাংলা ডেস্ক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বশান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হচ্ছে। আগামী

ইউরো বাংলা ডেস্ক


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিশ্বশান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পদক প্রদান করা হবে।

জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহতদের পরিবারের কাছে বা দেশের প্রতিনিধিদের কাছে এই পদক হস্তান্তর করবেন।

মরণোত্তর পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে এক আকস্মিক ও নৃশংস ড্রোন হামলায় এই ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বিশ্বের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। অনুষ্ঠানে গত বছর নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেওয়া হবে।

বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ বাংলাদেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারায় পরিচালিত মিশনগুলোতে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ ৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দক্ষতার সাথে কর্মরত আছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ৫০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। মোট ১১৮টি দেশ থেকে আসা এই সদস্যরা বর্তমানে ১১টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

সংস্থাটির সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন’ গঠনের স্মরণে প্রতি বছর ২৯ মে এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে টেকসই রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে অতীত ও বর্তমান সকল শান্তিরক্ষীকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী উপায়, তবে এর জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরিবেশেও শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিচ্ছেন, সহিংসতা প্রতিরোধ করছেন এবং মানুষের মনে আশার আলো জিইয়ে রাখছেন।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখা শান্তিরক্ষা কর্মীদের ‘ক্যাপ্টেন এমবায়ে দিয়াগনে মেডেল ফর এক্সেপশনাল কারেজ’, ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘ইউএন উইমেন পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন