নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়ায় চরম নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায়ের পাশাপাশি এই রুটে ব্যাপক চাঁদাবাজির তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি মোহাম্মদ এরশাদ খান নামের এক ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই রুটের বাস্তব চিত্র ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নেপথ্যের কারণ তুলে ধরে একটি পোস্ট দেন, যা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে জনপ্রতি সিএনজি ভাড়া ১০০ টাকা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীদের বাধ্য করে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ এরশাদ খান লিখেছেন, নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। আজ সেটা ৪০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। মাত্র ৩ দিন আগে, আমি নিজেও ১০০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা দিয়ে এসেছি।”
ভাড়া কেন এত বেশি নেওয়া হচ্ছে,যাত্রীদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিএনজি চালকরা চাঁদাবাজির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছেন। ভুক্তভোগী যাত্রী জানান, যাতায়াতের সময় চালক নিজেই তাকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার মূল কারণ জানিয়েছেন।
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ ব্রিজে প্রতি সিএনজি থেকে অবৈধভাবে ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই চাঁদার টাকা তুলতেই চালকরা সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই রুট দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের প্রতিনিয়ত এমন চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই মহাসড়কে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও ভাড়ার নৈরাজ্য চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে ময়মনসিংহ ব্রিজ এলাকার চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সিএনজি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনগণ।