নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে আওয়ামী লীগের মিছিলের জের ধরে তিন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবারের ওই মিছিলের পর যৌথ বাহিনীর অভিযান এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতারকৃত তিন কোমলমতি শিক্ষার্থী হলেন— ৯ম শ্রেণীর ছাত্র আরিফুল ইসলাম সাকিব, একই শ্রেণীর মোঃ রিপন এবং ১০ম শ্রেণীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম হাসান।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই মিছিলের সূত্র ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বেছে বেছে আওয়ামী লীগ ঘরানার পরিবারের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গতকালকের আওয়ামী লীগের মিছিলের জের ধরে এই গ্রেফতার চালানো হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নিজে গিয়ে এই স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মারধর করে পুলিশে দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত নজিরবিহীন।
রাজনীতির মাঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে এভাবে গ্রেফতার ও হেনস্থা করার বিষয়টিকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর এমন হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হচ্ছে, আজ যে নির্মম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সূচনা ঘটানো হলো, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত যে সেটি ভবিষ্যতে আরও কয়েক গুণ বেশি হয়ে ফিরে আসবে।
এলাকার থমথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই ধরণের হয়রানিমূলক গ্রেফতার বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।