বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা রবিন খুদা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায়। তার প্রতিষ্ঠিত ডেটা সেন্টার কোম্পানি এয়ারট্রাঙ্ক (AirTrunk) আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটিতে ৫ গিগাওয়াটেরও বেশি ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতকে নতুন গতি দিতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্ল্যাকস্টোন ও কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ডের সমর্থনপুষ্ট এয়ারট্রাঙ্কের এই উদ্যোগ বর্তমানে ভারতের বিবেচনাধীন বৃহত্তম ডিজিটাল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম।
ঢাকায় বেড়ে ওঠা রবিন খুদা ১৯৯৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও ক্লাউড অবকাঠামো খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০১৫ সালে এয়ারট্রাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে অর্থায়নের সংকট থাকলেও ধীরে ধীরে তিনি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ডেটা সেন্টার ব্যবসা গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
বর্তমানে এয়ারট্রাঙ্কের কার্যক্রম অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০২৪ সালে ব্ল্যাকস্টোনের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারে প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করলেও প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন রবিন খুদা।
ভারতে কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয় ২০২৬ সালের এপ্রিলে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান লুমিনা ক্লাউডইনফ্রা অধিগ্রহণের মাধ্যমে মুম্বাই, চেন্নাই ও হায়দরাবাদে ৬০০ মেগাওয়াট ডেটা সেন্টার উন্নয়ন পাইপলাইন অর্জন করে এয়ারট্রাঙ্ক। নতুন বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে আরও বিস্তৃত পরিসরে ডেটা সেন্টার স্থাপন করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির বিস্তার এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবার চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ডেটা সেন্টার খাত এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অবকাঠামো শিল্পগুলোর একটি। সেই প্রেক্ষাপটে একজন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তার নেতৃত্বে এমন একটি বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের গল্পই নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি মেধার উপস্থিতিরও গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
তবে এই বিনিয়োগকে ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। গবেষকদের মতে, বৃহৎ ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানির প্রয়োজন হয়। ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
তবুও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ অর্থনীতির দৌড়ে ভারত যখন নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, তখন ঢাকার সন্তান রবিন খুদার নেতৃত্বে এয়ারট্রাঙ্কের এই ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।