সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে দেশে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন (ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা-ও জানতে চান তিনি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি সংসদকে আশ্বস্ত করতে পারি যে, যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা (সরকার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা) যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারব বলে আশা করি।

এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তারা সবাই দলীয়ভাবে মনোনীত। অথচ এই গণতন্ত্রের জন্য ২০১৪ থেকে আরম্ভ করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের মানুষ লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রায় চার মাসের মতো ক্ষমতায় এলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা এখনো সুনির্দিষ্ট কিছু জানতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের পুরো শাসনব্যবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নির্বাচিত প্রতিনিধির দ্বারা পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ পাওয়া আমলা বা প্রশাসকদের অধীনে জেলাগুলো শাসিত হচ্ছে যা সংবিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে কবে হবে? সেই নির্বাচনে কখনো আমরা শুনতে পাচ্ছি কেউ বলছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে, কেউ বলছেন পারবে না। আবার কেউ বলছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না বিধায় ‘ক্লিন ইমেজের’ ব্যক্তিরা স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে পারবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আজ পরিষ্কার করতেন, তাহলে সকলের বুঝতে সুবিধা হতো এবং তৃণমূল পর্যায়ে যারা রাজনীতি করেন, তাদের বিভ্রান্তি কাটত।

প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে দাবি করে বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা অবিলম্বে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন