সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে দায় এড়ালেন মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মামলায় মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রূপাকে

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মামলায় মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই ঘটনার পেছনে নিজেদের দায় অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তৎকালীন ‘ওপর মহলের’ নির্দেশেই তারা সবকিছু করেছিলেন।

গত রবিবার (১৪ জুন) একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবুকে এবং আজ বুধবার (১৭ই জুন) সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে তদন্ত সংস্থায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আজ ফারজানা রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মোজাম্মেল হক বাবুকেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও ৫ আগস্টের আগে-পরের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। তবে এই ভিডিও ফুটেজগুলো দেখার পর মোজাম্মেল বাবু একটি অদ্ভুত দাবি উত্থাপন করেন। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, এই ভিডিও ফুটেজগুলো আসল নয়, বরং এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৭ মে শাপলা চত্বরের ওই ঐতিহাসিক হত্যাযজ্ঞের মামলায় এই দুই সাংবাদিককে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিল প্রসিকিউশন পক্ষ। আদালত প্রসিকিউশনের সেই আবেদন আমলে নিয়ে মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং একই সাথে তদন্ত সংস্থাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে নির্মম হত্যাকাণ্ড ও বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছিল, এই দুই সাংবাদিক গণমাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা প্রচার করে সেই সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় ওই নৃশংসতা আড়াল করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া সচল রেখেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন