বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ (পৌনে দুই গুণ) বন্দি আটক রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অতিরিক্ত বন্দি ধারণের ফলে কিছু কিছু কারাগারে আবাসন সংকট দেখা দিয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য জানান।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, অনুমোদিত মোট ধারণক্ষমতা: ৪৫ হাজার ১৩৬ জন (যার মধ্যে পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ এবং মহিলা ২ হাজার ২৯ জন)। বর্তমানে মোট বন্দি ৭৭ হাজার ৪০ জন (যার মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ এবং মহিলা ২ হাজার ৭৭ জন)।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনুমোদিত আসনের বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৩১ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত বন্দি দেশের কারাগারগুলোতে অবস্থান করছেন, যা মূল ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকায় আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কেরানীগঞ্জে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ এর কার্যক্রম ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, মাদারীপুর জেলা কারাগার-২ এবং পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ খুব শিগগিরই বন্দি ধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
কারাগারগুলোর আধুনিকায়ন ও পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে সম্পূর্ণ নতুন জেলা কারাগার নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
এই চারটি কারাগারের নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বন্দি ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের কারাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতা ৪৮ হাজার ১৩১ জনে উন্নীত হবে। এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি কারাগার পুনর্নির্মাণের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের কারাগারগুলোর আবাসন সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।