সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

পাবনায় ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত, ৭ জনই সমকামি

পাবনা জেলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি (এইডস) ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জনই পুরুষ সমকামী বা সমলিঙ্গের যৌন আচরণে অভ্যস্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ

পাবনা জেলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনের শরীরে এইচআইভি (এইডস) ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জনই পুরুষ সমকামী বা সমলিঙ্গের যৌন আচরণে অভ্যস্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সচেতনতামূলক কর্মশালা এবং ইউরো বাংলার ফ্যাক্ট চেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে, ৭ জনই পুরুষ কওমি মাদ্রাসার ছাত্র এমন কোনো তথ্য পাওয়াযায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ছড়িয়ে পড়া বিষয়টি গুজব।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার ও এইচআইভি: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় হাসপাতালের ‘কি পপুলেশনস (কেপি) সেন্টার’ এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করে।

কর্মশালায় জানানো হয়, পাবনা জেলায় শিরায় মাদক গ্রহণকারী, নারী ও পুরুষ যৌনকর্মী, সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরকারি জরিপ ও ম্যাপিং অনুযায়ী, বর্তমানে এই জেলায় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে নিবন্ধিত ও চিহ্নিত ১ হাজার ৬১৫ জন সমকামী, ৯০৮ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৭৬৫ জন নারী যৌনকর্মী, ৪৮৪ জন শিরায় মাদক গ্রহণকারী এবং ১১০ জন হিজড়া সদস্য রয়েছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় কিছু সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, আক্রান্ত সমকামীদের মধ্যে কওমি মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকও রয়েছেন। তবে পরিচয় গোপন রাখার আইনি ও মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার কারণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেশা বা সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করেনি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের কেপি সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, অসচেতনতা এবং অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্কের কারণে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এইচআইভির বিস্তার রোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও কাউন্সেলিং জোরদার করেছে।

একই সাথে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে এবং সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে দ্রুত এইচআইভি পরীক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মশালায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন