সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ-চীন ১৫-১৭টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা, সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে তিস্তা প্রকল্প

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রীয় সফরে বহুল আলোচিত ‘তিস্তা প্রকল্প’ নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর উপলক্ষে রবিবার (২১ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী রবিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে মালয়েশিয়া পর্বের সফর শেষ করে সোমবার বিকেলে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।

মিতব্যয়িতার নীতি অনুসরণ করে দুই সফরের জন্যই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট রাখা হয়েছে, যার সদস্যসংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।

এ ছাড়া চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই বৈশ্বিক ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই দ্বিমুখী সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরের মালয়েশিয়া পর্বে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন সফরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার তুলে ধরা হবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন