আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “এ বিপ্লব কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী ও পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর বিপ্লব।”
শনিবার (২০ জুন) খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রাখেনি। আমরা বিএনপিকে বলছি, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন। জনরায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে দফায় দফায় দেখার পরেও যদি শিক্ষা না হয়, জীবনেও আপনাদের শিক্ষা হবে না।”
সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্ট বলে দিচ্ছি—যদি এই দেশবাসী ও আমরা দেখতে পাই আধিপত্যবাদের সামনে সরকার মাথা নত করছে, আপনাদেরও আমরা ছেড়ে কথা বলব না।” ভোট কারচুপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে যে কজন আছেন, তারা সিংহের মতো লড়াই করে যাবেন। সংসদীয় উপায়ে কাজ না হলে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহর থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে এবং সেই দাবানলে সমস্ত আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটা দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মুষ্টিমেয় বিজিবি সদস্য সীমান্তে যখন দাঁড়িয়ে গিয়েছে, জনগণ তখন তাদের ডান হাতে পরিণত হয়েছে। আমরা চাই না আমাদের কোনো প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কোনো প্রতিবেশী আমাদের দিকে তাদের কালোহাত বাড়াক, ওইটাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালোহাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি—সেই কালোহাত ভেঙে দেওয়া হবে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে, তা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে এই বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্মসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।