যুক্তরাজ্য সফররত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে লন্ডনে মামলা দায়ের করেছে আওয়ামী লীগ। গত শুক্রবার (১৯ জুন) লন্ডনের ক্যামব্রিজ থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন এনসিপি নেতা এহতেশাম হক, জাকির চৌধুরী ও শাহীন আলম। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই জাকির চৌধুরীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ব্রিটিশ পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
হামলার শিকার জুবায়ের নামক এক যুবক ব্রিটেনের পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল্যাবের ডেলিভারির কাজ শেষ করে ফিরছিলেন। পথে একটি ভ্যান তাকে অনুসরণ করতে থাকে এবং ব্রডচেটার রোডের ৩৫ নম্বরের সামনে এসে থামে। জুবায়েরের অভিযোগ, ভ্যান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে এসে তাকে ঘিরে ফেলে এবং তিনজন তার ওপর আক্রমণ চালায়। হামলাকারীদের একজনের হাতে ছুরি ছিল এবং তারা জুবায়েরের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। জুবায়েরের দাবি, হামলার সময় তিনি গাড়ির ভেতর হাসনাত আবদুল্লাহকে উপস্থিত থাকতে দেখেছেন।
পরবর্তীতে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও ভ্যানটিতে হাসনাত আবদুল্লাহর যাত্রী হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তদন্তের স্বার্থে কেমব্রিজ থানা থেকে তলব করা হলে হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের আইনজীবীসহ থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁর বক্তব্য পেশ করেন।
এই ঘটনার প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ‘জাইজেল হার্পার’ নামে স্থানীয় এক ব্রিটিশ নারী পুলিশের কাছে লিখিত সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে জাইজেল বলেন, “আমি বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র চিৎকার এবং বিদেশি (বাংলা) ভাষায় চেঁচামেচি শুনছিলাম। জানালা খুলে দেখি, কয়েকজন ব্যক্তি মিলে এক যুবককে টানাহেঁচড়া করছে।” জাইজেল নিজের ঝুঁকি নিয়ে ঘটনাস্থলের একটি ছবি এবং অভিযুক্ত ভ্যানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর তুলে রাখেন, যা বর্তমানে কেমব্রিজ পুলিশের কাছে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘নতুন নাটক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ ও পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সমর্থকরা হাসনাত আবদুল্লাহর ধারাবাহিক সফল সফর ও অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বক্তব্যকে ব্যাহত করতেই এই কাল্পনিক মারধরের গল্প সাজিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারা যুক্তরাজ্য পুলিশের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসনাত আবদুল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ আমাদের নামে মামলা করেছে। এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এই বিষয়টি আইনিভাবে দেখছে।”
এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জননিরাপত্তার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ব্রিটেনের একটি বিশেষায়িত সংস্থা ইতিমধ্যেই নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রিটিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের পেশাদার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এই আইনি ষড়যন্ত্রও অতীতে তাদের অন্যান্য অপচেষ্টার মতোই ব্যর্থ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।