ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটকের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (২৮) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে এবং তিনি জেলা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। প্রান্তর পরিবারের দাবি, আটকের সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং পুলিশের হেফাজতে থাকার সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের চাচা ও স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর জানান, রবিবার (১৪ জুন) গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে সোমবার সকালে তারা জানতে পারেন যে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। স্বজনদের দাবি, আটকের আগে প্রান্তর কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। হেফাজতে নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় এর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে গোন্দারদিয়া এলাকায় প্রান্তর বাড়ির উত্তর পাশের একটি ফাঁকা স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “মধুখালী এলাকা থেকে মাদকসহ আটক এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।”
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদকসহ আটকের পর ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি বলে দাবি করে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।