কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আগামী ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই সেনা মোতায়েন কার্যকর থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে। এ বিষয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অরাজকতার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবারই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের ওই বার্তায় বলা হয়, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে। এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার রাতে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৩ জুন উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার সব প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
ডিএমপি জানিয়েছে, নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সদস্যরা। সম্ভাব্য নাশকতা ও ষড়যন্ত্র ঠেকাতে তারা সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্তসংখ্যক রিজার্ভ ফোর্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করবেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।