সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি নৃশংস পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় এক ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের মরদেহ কোফিনু এলাকার অভিবাসী আবাসন কেন্দ্র ও স্থানীয় কসাইখানার কাছে একটি নির্জন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল এবং সেখানে পৌঁছাতে আবাসন কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। মরদেহে গলায় ও পিঠে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন এবং শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে। উদ্ধারকালের সময় মরদেহে পচন ধরেছিল।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়েছিল একটি বাসে। অভিযুক্তের দাবি, ইমন তাকে অপমান করেছিলেন। সেই ঘটনার পাঁচ দিন পর তিনি ইমনকে ওরোকলিনি এলাকা থেকে কোফিনুতে নিয়ে যান এবং সেখানে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি তড়িঘড়ি করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর অভিযুক্ত ইমনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করেন। অথচ সে সময় ইমন ইতোমধ্যেই নিহত হয়েছিলেন। পরিবারের কাছে প্রথমে ১০ হাজার ইউরো এবং পরে আরও ২৫ হাজার ইউরো দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বার্তায় হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল, বিষয়টি কাউকে জানালে তারা আর ভুক্তভোগীর মুখ দেখতে পাবে না।
ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইমন ওরোকলিনিতে তার বাসা থেকে বের হন। তিনি পরিচিতদের বলেছিলেন যে, কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় প্রথম দিনের কাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন। একই রাতে তার মোবাইল ফোন থেকে এক বন্ধুর কাছে একটি অবস্থানসংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হয়, এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
পুলিশের তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কোথায় ফেলে রাখা হয়েছে, সে তথ্যও দেন। এছাড়া জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাইপ্রাসে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য চলতি মাসের ১২ তারিখে ইমন কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিলেন।
বর্তমানে সাইপ্রাস পুলিশ ঘটনাটিকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।