সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত’-নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ক্ষোভের তথ্য প্রকাশ

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক ফোনালাপে ‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিকের লেখা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এক ফোনালাপে ‘সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিকের লেখা নতুন বই শাসন পরিবর্তন-এ ট্রাম্পের এই ক্ষোভের তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক মার্কিন শান্তি দূত জ্যারেড কুশনার, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি ফোনালাপের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ওই সময়ে তারা ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন, যা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বইটির তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলের ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষুব্ধ হন। ওই হামলায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দেয়।

চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে কুশনার তার এক সহযোগীকে বলেন, আমি এর মধ্যে আর নেই। ইসরায়েলিরা পাগল হয়ে গেছে। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েই ইসরায়েলকে দিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব। এরপর তিনি একটি শান্তি পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কাছে উপস্থাপন করেন।

উত্তপ্ত সেই ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, বিবি, সবাই তোমার ওপর বিরক্ত। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।

ট্রাম্প আরও বলেন, তুমি এটা থেকে পিছিয়ে যেতে পারো না। ইসরায়েল যত বন্ধু পেয়েছে, তার মধ্যে আমিই সেরা। সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, আর আমি তোমার পাশে দাঁড়িয়েছি। এই চুক্তিটি ইসরায়েলের জন্য দারুণ একটি সুযোগ।

এই ফোনালাপের দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শান্তি পরিকল্পনাটি ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও পরিকল্পনাটির অনুমোদন দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জনাথন সোয়ানের লেখা শাসন পরিবর্তন বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বইটিতে জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আলোচনারও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার সময় ট্রাম্প আবারও নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরিস্থিতি কক্ষে কথা বলেন। সে সময় নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য সেটিই উপযুক্ত সময়। তবে পরবর্তী এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেতানিয়াহুর এই মূল্যায়নকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন।

এদিকে, একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের এসব তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসায় ট্রাম্প চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন

আরও পড়ুন