নিজেদের ‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পের জন্য তৈরি উচ্চ-তাপমাত্রার একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই মাইলফলকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ প্রশস্ত করলো বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই ফিউচার সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ নামের একটি ফিউশন পরীক্ষা যন্ত্রের জন্য এই বিশেষ ম্যাগনেটটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় একে বলা হয় ‘সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট’। বিজ্ঞানীরা এই যন্ত্রটিকে একটি গাড়ির ইঞ্জিনের ‘স্পার্ক প্লাগ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন; যা প্লাজমার মধ্য দিয়ে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করতে মূল ভূমিকা পালন করে।
সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ম্যাগনেটটি ৬০ কিলোঅ্যাম্পিয়ার স্থিতিশীল বৈদ্যুতিক প্রবাহ বহন করতে সক্ষম এবং এটি ৬ দশমিক শূন্য ৩ মেগাজুল শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে এই সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেটের মূল কর্মক্ষমতা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
চীনের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্লাজমা ফিজিক্স ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিন চিংকাং এই সাফল্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট হলো সবচেয়ে জটিল অপারেটিং কন্ডিশনের একটি যন্ত্র। এর কর্মক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে ফিউশন ডিভাইসটি চালু থাকবে কি না এবং তা কতটা স্থিতিশীল হবে। এটিই সেই মূল উপাদান, যা ফিউশনকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে ব্যবহারিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্ধারণকারী ভূমিকা পালন করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বার্নিং প্লাজমা ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রটির সামগ্রিক নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যেই এই ‘কৃত্রিম সূর্য’ বা পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন।
বিজ্ঞানীদের মতে, ফিউশন শক্তি হলো ভবিষ্যতের ‘সবুজ ও সীমাহীন’ জ্বালানির উৎস। এই পরীক্ষায় সফলতার মাধ্যমে চীন নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং নির্ভরযোগ্য ফিউশন শক্তি পাওয়ার দৌড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল।